Tuesday, 3 November 2015

লাভ ইউ সেন্ট ইকার...... লাভ ইউ রিয়াল মাদ্রিদ......

সময়টা ১৯৮১।
ফুটবল দুনিয়া এই ১০০ বছর সময়ের মধ্যে দেখে ফেলেছে অনেক লিজেন্ডকে।পেলে,ডি স্টেফানো,পুসকাস এদের সময় তখন শেষ।ম্যারাডোনা তখন উঠতি তারকা।এত সময় গেল।ফুটবল বিশ্ব হয়ত পেয়েছে বিশ্বের সেরা সেরা মিডফিল্ডার,ডিফেন্ডার,আর স্বভাবতই এটাকার।
এতকিছুর পরও তারা পাচ্ছিলোনা একজন অতন্দ্র প্রহরীকে।যে কিনা ফুটবল বিশ্বের বুক চিরে হাজারো ইতিহাস সৃস্টি করবে।বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবল প্রেমিক তখনও জানত না সেই বছরেরই ২০ মে বিশ্বের কোল জুড়ে আসবে এক মহান শিশু,যে হবে একটি দলের স্তম্ভ,একটি দলের প্রান,কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসা এবং একজন লিজেন্ড।
২০ মে ১৯৮১ সালে এক দম্পতির কোলজুড়ে এল অবুঝ শিশু।আদর করে তার নাম রাখা হল ইকার ক্যাসিয়াস ফার্নান্দেজ।ফুটবলকে ভাবা হয় এটাকের খেলা,গোলের খেলা।স্বভাবতই সবাই এটাকার বা মিডফিল্ডার হতে চায়।কিন্তু তিনি এমন ছিলেন না।ঠিক করে নিলেন,যাবেন স্রোতের বিপরীতে।
এ ফুটবল বিশ্বে তো কত এটাকার এসেছে,খেলেছে,নাম কামিয়েছে।কিন্তু কজন পেরেছে একজন গোলকিপার হয়ে সেই নাম কামাতে।আসলে নাম কামানোটা বড় ব্যাপার না,এই নামটা,এই খ্যাতিটা ধরে রাখাই বড় ব্যাপার।কথায় বলে:'স্বাধীনতা অর্জন করার চেয়ে রক্ষা করা অনেক কঠিন'
যেমন ওচোয়ার কথাই ধরুন না।
একজন এটাকার বেশির ভাগ সময়েই তার নাম,খ্যাতি ধরে রাখতে পারে।কিন্তু একজন কিপার???তাকে করতে হয় অনেক বছরের সাধনা আর কঠোর পরিশ্রম।কিপারদের জীবনে ভাগ্য বলতে কিছু নেই পুরোটাই পরিশ্রমের সংমিশ্রন।
জন্ম মাদ্রিদে হলেও বাবার চাকরিসূত্রে তাকে অন্য জায়গায় চলে যেতে হয়।কিন্তু যার নাড়ি পোতা মাদ্রিদে,তাকে কি কোন দূরত্ব আটকে রাখতে পারে???
সি দলের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করে ১৯৯৯ এর মধ্যেই মাদ্রিদের মূল দলে সূযোগ পেয়ে যান।সেই সূযোগ কাজে লাগাতে বিন্দুমাত্র ভুল করেননি।তিনি দেখিয়েছেন পরিশ্রম বয়সকেও হার মানায়।
তার এই মহৎ কিপার,অসাধারন খেলা,ভাল ব্যবহার এসবকিছুর চেয়েও সবচাইতে বড় কথা তিনি একজন ট্রু মাদ্রিদিস্তা।মাদ্রিদের প্রতি ভালবাসার প্রতীক এর চেয়ে বড় আর কি হতে পারে???
জীবনে তার মাদ্রিদ ছাড়ার সূযোগ কম আসেনি।কিন্তু যার আত্মা সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর চার দেয়ালে বন্দী সেই ইকার কে কি আর টাকা কিছু করতে পারে।তিনি তার যোগ্যতা দিয়ে টাকাকে তুচ্ছ প্রমান করেছেন।তিনি প্রমান করেছেন কঠোর মনোবল,পরিশ্রম এর কাছে টাকা একটা তুচ্ছ বস্তু।একটা সময় ছিল যখন মাদ্রিদের ডিফেন্স শুধু নামেই ছিল।তখন হয়ত ইকার নামে এই প্রহরীটি ছিল বলেই মাদ্রিদ আজ এই অবস্থায়।আজ স্পেন এর নামের পাশে এত শিরোপা থাকত না যদি ক্যাসিয়াস না থাকত।
২০১০ বিশ্বকাপ,২০১২ ইউরোতে তার কিছু অসাধারন সেভের ফসল আজ স্পেনের এত শিরোপা।তবুও তিনি আড়ালেই থেকে গেছেন।সবাই টিকি টাকা ফুটবলকে ক্রেডিট দিয়েছে,কিন্তু তারা ভুলে গিয়েছিল ইকারের কথা।হবেই তো কারন তিনি তো খেলেন ফুটবলের সবচেয়ে আনহাইলাইটেড পজিশনে।কিন্তু এতে তার পরিশ্রম,তার বুদ্ধিমত্তা তো আর ছোট হয়ে যায় নাতার মাদ্রিদে কাটানো অসাধারন কিছু মুহূর্তের একটু ঝলক:
২০০৯-১০ মৌসুমের ৪ অক্টোবর সেভিয়ার বিরুদ্ধে এক খেলায় ক্যাসিয়াস অসাধারণ এক সেভ করেন; তিনি গোলবারের একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে অবিশ্বাস্য গতিতে ছুটে যান এবং দিয়াগো পেরত্তির সাথে খুব কাছাকাছি অবস্থায় এক বনাম একের মোকাবিলায় জয়ী হয়ে পেরত্তিকে গোলবঞ্চিত করেন।
১৯৯৯-২০১৫ এই ১৬ বছর মাদ্রিদকে অনেক কিছু দিয়েছেন।মাদ্রিদের সুসময় দুঃসময় সবসময় পাশে থেকেছেন।নিজে টানা ৬ বছর বিশ্বসেরা একাদশে ছিলেন।মাদ্রিদের গোলবারকে নিজের মত আগলে রেখেছেন।
কিন্তু সবারই যাবার সময় হয়।যেমনটা ক্যাসিয়াসের হয়েছে।১৬ বছর নির্ঘুম প্রহরীর মত গোলবার পাহাড়া দিয়ে চলে গেছেন পোর্তোতে।
কথায় বলে মানুষের শরীরের মৃত্যু ঘটে কিন্তু তার আত্মার মৃত্যু ঘটে না।তেমনি ক্যাসিয়াসের দেহটা পোর্তোতে গেছে ঠিকই কিন্তু তার মন এই সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর চার দেয়ালের ভিতরেই রয়ে গেছে।তা হয়ত তার মৃত্যুর শেষদিন পর্যন্ত থাকবে,হয়তবা মৃত্যুর পরেও..........